অদম্য মেধা আর ইচ্ছা শক্তি থাকলে যে কোনো বাধাই যে জয় করা সম্ভব, তাঁর অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লালমনিরহাটের মোঃ নাসিফুজ্জামান নাসিফ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৩১৬তম স্থান অধিকার করে তিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও নাসিফের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নপূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা।
অবশেষে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং তার উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ তহবিল থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাসিফের হাতে সরকারি বরাদ্দ থেকে ২০হাজার টাকার একটি আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান।
স্বপ্নের পথে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন নাসিফের বাড়ি লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগরের রমাকান্ত এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী নাসিফ বুয়েটে পড়ার সুযোগ পেলেও তার পরিবারের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
আবাসন সংকট: বুয়েটে ভর্তির পর শুরুতেই আবাসিক হলে আসন না পাওয়ায় বাইরে থাকা-খাওয়ার বাড়তি খরচের বোঝা এসে পড়ে তার পরিবারের ওপর।
ল্যাপটপের অভাব: ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার জন্য একটি ল্যাপটপ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু নাসিফের বাবার পক্ষে বর্তমান পরিস্থিতিতে ল্যাপটপ কিনে দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।
ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্য না থাকায় এবং ঢাকা শহরে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছিল নাসিফের পরিবার। অনন্যোপায় হয়ে ল্যাপটপ ও পড়াশোনার সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করেন নাসিফ।
সরকারি বরাদ্দ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা
নাসিফের মেধা এবং আবেদনের গুরুত্ব বিবেচনা করে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং সরকারের বিশেষ বরাদ্দ থেকে এই অর্থ মঞ্জুর করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই আর্থিক সহায়তা নাসিফের ল্যাপটপ কেনা এবং পড়াশোনার শুরুর দিকের খরচ মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের এই ধরনের কল্যাণমুখী বরাদ্দ নাসিফের মতো আরও বহু মেধাবীকে প্রতিকূলতার মাঝেও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে প্রেরণা জোগাবে।