লালমনিরহাট তেলীপাড়ার সহজ-সরল নিরীহ যুবক সুমনকে অমানবিক ও নৃশংসভাবে হত্যা করায় অনতিবিলম্বে খুনিদের বিচারের দাবিতে- মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় লালমনিরহাট জেলা শহরের শেখ শফি উদ্দিন কমার্স কলেজ ও দক্ষিণ খোর্দ্দ সাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এলাকাবাসী ও চাঁদনী বাজারের লায়ন্স স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নিহতের এলাকাবাসী আবুল কালাম, এরশাদুল হক আসাদ, বন্ধু মহলের পক্ষে কবি ও সাংবাদিক হেলাল হোসেন কবির, বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আল-আমিন, দক্ষিণ খোর্দ্দ সাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান আমিনুর, শেখ শফি উদ্দিন কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান, নিহতের ভাবি মুক্তা বেগম, স্ত্রী নুরজাহান বেগম, মা আনোয়ারা বেগম প্রমুখ। সঞ্চালক ছিলেন লায়ন্স স্পোর্টিং ক্লাবের আহবায়ক মোঃ সাদ্দাম হোসেন।
মানববন্ধনে নিহতের স্বজনসহ এলাকার কয়েকশ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণকারীরা ‘সুমন হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্ত্রী নুরজাহান বেগম। তিনি তার স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে ফাঁসির দাবি জানান।
সুমনের মা আনোয়ারা বেগম এবং ভাবি মুক্তা বেগম বলেন, সুমন একজন নিরীহ মানুষ ছিলেন, তাকে যারা এভাবে কেড়ে নিয়েছে, আমরা তাদের কঠোর শাস্তি দেখে মরতে চাই।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে বা পরিকল্পিতভাবে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা সমাজ ও আইনের জন্য চরম অবমাননাকর, পুলিশ বাহিনীকে ৭২ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তারা বলেন, যদি অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
উল্লেখ্য যে, লালমনিরহাট শহরের তেলিপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আব্দুস সোবহান ও আব্দুস সাত্তারের পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ১০ এপ্রিল রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শাবলের আঘাতে সুমন গুরুতর আহত হন। গত ১১ এপ্রিল সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমনের মৃত্যু হয়। পরে ময়না তদন্ত শেষে গত ১২ এপ্রিল রাত ৯টায় লালমনিরহাট পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে শেখ শফি উদ্দিন কমার্স কলেজ মাঠে জানাযা নামাজ শেষে সুমনের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।