বায়ান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নব-নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর জন্য আলাদা কোনো পুষ্পস্তবকের ব্যবস্থা রাখেনি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। একুশের প্রথম প্রহরে বায়ান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ বেদীতে এসে নিজ নামে পুষ্পস্তবক না পেয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েন মন্ত্রী।
একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রাক্কালে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জেলা প্রশাসককে বলেন, “আমার পুষ্পস্তবক কই? আমি তো প্রশাসনিক কোনো লোক না।”
মন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক না থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বোধ করেন।
সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সকল আয়োজন প্রশাসনের করার কথা থাকলেও, এই উদাসীনতা লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইসবুক) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের দায়িত্বহীনতা ও মন্ত্রীর ‘প্রটোকল লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে পোস্ট করেছেন। এতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জেলা প্রশাসক।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ তাজুল চৌধুরী জানান, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সকল আয়োজন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করার কথা থাকলেও তারা উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে শুধু মন্ত্রী নন, আমাদেরকেও বিব্রত অবস্থায় ফেলেছেন।
সাংস্কৃতিক সংগঠক শামীম আহমেদ জানান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের এমন সমন্বয়হীনতা সাধারণত ‘প্রটোকল লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচিত।
লালমনিরহাট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান আনিছ জানান, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করবেন জেলা প্রশাসন। কিন্তু তারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে শহিদ মিনারে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। এটা কেন হলো তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে একুশের প্রভাতফেরি (সূর্যোদয়) থেকে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাজের সর্বস্তরের মানুষজনের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মাইকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি বাজানো হয়নি। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মাইক বন্ধ ছিল। এ সময় শহিদ বেদীতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষজন পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
এ ঘটনায় লালমনিরহাট সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং টিআইবি সদস্যরা শহিদ মিনারে গিয়ে শহিদ দিবসের ওই গানটি সমবেত কণ্ঠে গেয়ে প্রতিবাদ জানান। এই ঘটনাটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইসবুক) ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন।
পরে তড়িঘড়ি করে লালমনিরহাট জেলা তথ্য অফিসের মাইক নিয়ে সকাল ১০টার দিকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি বাজানো শুরু করা হয়।
নাট্য সংগঠক সুপেন্দ্র নাথ দত্ত ও সাংস্কৃতিক কর্মী সূফী মোহাম্মদ জানান, আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি মাইকে না বাজানো একুশের চেতনার পরিপন্থী। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।