শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মজিদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন ও গার্ড অব অনার প্রদান সাকোয়ার মঞ্জিল বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম শফি-এঁর ইন্তেকাল ১৬৪ ধারায় আদালতে বিধানের স্বীকারোক্তি ‘ক্ষোভ থেকে নন্দিনীকে হত্যা পর মরদেহ মাটি খুড়ে পুতে রাখেন বিধান’ প্রাচীর ভেঙ্গে বিল্ডিং নির্মাণ : ৬০লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে পুনরায় কারণ দর্শানো নোটিশ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক পেলেন লালমনিরহাটের সোনালী দুর্নীতিবিরোধী রচনা, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত শিশু অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, ওসি প্রত্যাহার ডিসির গাড়ীও ভাংচুর, এনডিসিসহ আহত অর্ধশতাধিক ভূট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুর মরদেহ উদ্ধার বিএডিসির সেচ কার্যক্রমে বদলে যাচ্ছে লালমনিরহাটের কৃষিচিত্র: এক ফসলি জমিতে এখন তিন ফসলের স্বপ্ন
১৬৪ ধারায় আদালতে বিধানের স্বীকারোক্তি ‘ক্ষোভ থেকে নন্দিনীকে হত্যা পর মরদেহ মাটি খুড়ে পুতে রাখেন বিধান’

১৬৪ ধারায় আদালতে বিধানের স্বীকারোক্তি ‘ক্ষোভ থেকে নন্দিনীকে হত্যা পর মরদেহ মাটি খুড়ে পুতে রাখেন বিধান’

আলোচিত নন্দিনী রাণী হত্যা কাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত আসামী বিধান চন্দ্র বর্মণ।

বুধবার (১৭ জুন) বিকালে লালমনিরহাট আমলী আদালত-২ (সদর) এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলাউদ্দিনের আদালতে এই জবানবন্দী দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার বিকালে লালমনিরহাটের আমলী আদালত-২ (সদর) এর বিচারক মোঃ আলাউদ্দিনের আদালতে সন্দেহভাজন আসামী বিধান চন্দ্র বর্মন ও রনজিত চন্দ্র বর্মণকে সোপর্দ করা হয়। বিধান চন্দ্র বর্মণ হত্যা কান্ডে নিজের সম্পৃক্ততার জবানবন্দী দিতে রাজি হলে বিজ্ঞ আদালত খাসকামরায় তার জবানবন্দী গ্রহণ করে। ১৬৪ ধারায় শিশু নন্দিনী রানীকে ক্ষোভ থেকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন মুল অভিযুক্ত আসামী বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৩)। তবে বিধান চন্দ্র বর্মণের বাবা রনজিত চন্দ্র বর্মণ হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবী করেছেন। ফলে ১৬৪ ধারায় রনজিতের জবানবন্দী নেননি আদালত।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত নন্দিনী রাণী (৭) লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকার নলিনী মোহন বর্মণের কন্যা। গত সোমবার (১৫ জুন) বিকাল ৩টা থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুজির পরও তার সন্ধান মিলেনি। পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বাড়ীর পাশের একটি ভূট্টাক্ষেতে বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

‘আলোচিত ফলিমারীসহ আশপাশের গ্রামে পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য অধিকাংশ পরিবার’

শিশু নন্দিনী রাণী হত্যাকান্ডের পর খুনিকে আটকের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা-সরকারি গাড়ী ভাংচুর এবং রনজিত চন্দ্র বর্মণের বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্কে প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে আলোচিত ফলিমারীসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের অধিকাংশ পরিবার। গতকাল বুধবার ফলিমারীসহ আশপাশে গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এমনচিত্র। এছাড়া স্থানীয় একাধিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহীন জামান, সৈয়দ আলী, জলধর বর্মণ, কান্তেশ্বর বর্মণ, তরুনী কান্ত বর্মণ ও মিলন চন্দ্র রায় বলেন, ‘পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উপর বহিরাগত অপরিচিত লোকজন হামলা করেছে। ওই লোকজন গুলোই রনজিত চন্দ্র বর্মণের বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। অথচ এখন পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে ফলিমারীসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় পরিবারগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আনেকেই আতঙ্কে দিন পারকরছে।’

তাদের দাবী, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অপরাধী চিহ্নিত করে যেন পুলিশ গ্রেফতার করে। কোনো নিরপরাধ মানুষকে যেন গ্রেফতার করা না হয় কিংবা হয়রানীর শিকার হতে না হয়।’

“যে কারণে রনজিত চন্দ্র বর্মণের ঘর-বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ”

রনজিত চন্দ্র বর্মণের প্রথম স্ত্রী মমতা রাণী অন্য পুরুষের হাত ধরে চলে যায় ২০২৫ সালের শেষের দিকে। এর কিছুদিন পর রনজিত পাশর্^বর্তী তালুক দুলালী গ্রামের স্বপ্না রাণীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এর কিছুদিন পর বিধান চন্দ্র বর্মণ তার মা মমতা রাণীকে আবার ফেরত আনে। দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্না রানীকে কিছু আর্থিক জরিমানা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এই পরস্পর ঘটনাগুলো ভালো চোখে নেয়নি স্থানীয় সনাতন সমাজ। এ ঘটনায় দুইটি পক্ষ সৃষ্টি হয়। একটি পক্ষে নেতৃত্ব দেন ধীরেন চন্দ্র বর্মণ। এই পক্ষে ছিলেন রনজিত চন্দ্র বর্মণ। অপর পক্ষে নেতৃত্ব দেন লিটন চন্দ্র বর্মণ। লিটনের পক্ষে প্রতিবেশি নলনী মোহন বর্মণরা রনজিত চন্দ্র বর্মণের বিপক্ষে অবস্থান নেন। গত কয়েক মাস আগে তথা গত রোজার ঈদের কিছুদিন আগে স্থানীয় সনাতন সমাজ এক পর্যায় রনজিত চন্দ্র বর্মণ, স্ত্রী মমতা রাণী ও স্বর্ণকার কর্মচারী একমাত্র ছেলে বিধান চন্দ্র বর্মণকে সমাজচ্যূত (এক ঘরে) করে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ হিসেবে থেকে যায়। এরপর ঘটে নন্দিনী রাণীকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনা। নন্দিনী রাণী নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশও কোনো অভিযোগ না নেয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ আরো তীব্র আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) নন্দিনী রাণীকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে যখন বিধান চন্দ্র বর্মণ ও তার বাবা রনজিত চন্দ্র বর্মণকে পুলিশ আটক করে। তখন স্থানীয় লোকজনের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়ে রনজিত চন্দ্র বর্মণের ঘর-বাড়ি ভাংচুর, লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে এক কাপড়ে পালিয়ে যান বিধান চন্দ্র বর্মণের মা মমতা রাণী। গত মঙ্গলবারের ত্রাসের ঘটনায় রনজিত চন্দ্র বর্মণের ছোট দুই ভাই কৃষক অমৃত চন্দ্র বর্মণ ও ভ্যান চালক অনিল চন্দ্র বর্মণ প্রাণনাশের ভয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। গতকাল বুধবার সরেজমিনে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। রনজিত চন্দ্র বর্মণসহ তার ভাইয়ের গবাদিপশুসহ সবকিছু লুট হয়ে গেছে। পুলিশের সামনেই এসব ঘটনা ঘলটেও ওই সময় পুলিশের কিছুই করার ছিল না বলে দাবি করেন ডিবি পুলিশের ওসি মোঃ রওশন কবীর। তবে জনরোষ থেকে রনজিত চন্দ্র বর্মণ ও বিধান চন্দ্র বর্মণের জীবন রক্ষা করাই পুলিশের জন্য মারাত্মক ও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে তিনি দাবী করেন।

‘প্রত্যাহার করা পুলিশ পরিরদর্শক (ইন্সপেক্টর) নাজমুল হকের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণ করার অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন’

শিশু নন্দিনী রাণী রায় নিখোঁজের ঘটনায় পাড়া-প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে এলাকায় রাতে মাইকিং করেন নলনী মোহন বর্মণ। এরপরও খোঁজ না পেয়ে ওইদিন ১৫ জুন সোমবার রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে জিডি করতে নন্দিনীর মামা বিপুল চন্দ্র বর্মণ, স্থানীয় ব্যবসায়ী কান্তেশ্বর বর্মণ ও সহকারী শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র বর্মণকে সঙ্গে নিয়ে আদিতমারী থানায় যান। ওইদিন রাতে ডিউটি অফিসার ছিলেন সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খালেক।

নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মণ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী কান্তেশ্বর বর্মণ বলেন, ‘ডিউটি অফিসারকে আমরা ঘটনার কথা খুলে বলি। তখন তিনি বিরোক্ত হয়ে বলেন-যান যান দুই-তিন দিন পর আসেন। আগে খোঁজাখুঁজি করেন।’

কান্তেশ্বর বর্মণ আরও বলেন, ‘থানা থেকে চলে আসার সময় ডিজি নেয়ার জন্য আমি আরো একবার ডিউটি অফিসারকে অনুরোধ করতে যাই। তখন তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বলে যে, ‘‘আপনি বেশি বোঝেন।” তিনি বিরোক্ত হওয়ায় আমিসহ সকলে চলে আসি। ওইদিন পুলিশ আমাদের অভিযোগ না নেয়ায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ ছিল। মানুষের ক্ষোভ থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।’

এসব অভিযোগের কারণে ওসি নাজমুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। ওই সময় কী ঘটেছিল-তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদত হোসেন সুমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অপর দুই সদস্য হলো সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মোঃ ফজলুল হক ও ডিবির ওসি মোঃ রওশন কবীর। এ কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পুলিশ সুপারের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান। এ কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মোঃ ফজলুল হক।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নন্দিনী রাণী রায়কে ক্ষোভ থেকে হত্যা করে লাশ মাটি খুড়ে পুতে রাখার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র বর্মণ। বিধানের মা মমতা রাণী অন্য পুরুষের হাত ধরে চলে যাওয়ার কারণে দ্বিতীয় বিয়ে করে তার বাবা রনজিত চন্দ্র বর্মণ। কিছুদিন পর ওই স্ত্রীকে তাড়িয়ে দিয়ে আগের স্ত্রী মমতা রাণীকে ঘরে তোলেন তিনি। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন সমাজের মধ্যে দুইটি পক্ষ সৃষ্টি হয়। লিটন পক্ষ নেন নন্দিনী রাণী বর্মণের বাবা নলনী মোহন রায়সহ অন্যরা। এ নিয়ে প্রতিবেশি দুই পরিবারের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সমাজচ্যুত করার ক্ষোভ থেকেই বিধান চন্দ্র বর্মণ শিশুটিকে গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে ধরে এনে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহটি বস্তায় ঢুকিয়ে মাটি খুড়ে পুতে রাখে বলে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ করছে।’

“নন্দিনী হত্যাকান্ডে আসামী যারা”

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদ মোঃ আইয়ুব তুহিন বলেন, ‘শিশু নন্দিনী রাণী হত্যা কা-ের ঘটনায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিধান চন্দ্র বর্মণকে। এছাড়া সহযোগিতার অভিযোগ এনে আসামী করা হয়েছে বিধানের বাবা রনজিত চন্দ্র বর্মণ ও মা মমতা রাণীকে। মঙ্গলবার রাতে ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত শিশু নন্দিনী রাণীর বাবা নলনী মোহন বর্মণ। আদিতমারী থানার মামলা নং ১০/১২১ (১৬ জুন)। দুই আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ড জড়িত থাকার বিষয়ে আসামীদ্বয় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে। অপর আসামী মমতা রাণীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

শিশু নন্দিনী রাণীর ময়নাতদন্ত ও সৎগতি সম্পন্ন
মঙ্গলবার মরদেহ উদ্ধারের পর লালমনিরহাট সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপর মরদেহ একইদিন রাত ১১টায় পর পরিবারের কাছে পুলিশ হস্তান্তর করলে রাতেই সৎগতি সম্পন্ন করা হয়।

শিশু নন্দিনী রাণীর বাবা নলনী মোহন বর্মণ বলেন, ‘রাত ১২ টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই বুকের মানিক নন্দিনী রাণীর মরদেহের সৎগতি করা হয়েছে। আমাদেরকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে।’

‘পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উপর হামলায় এখনও মামলা হয়নি’

পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘মঙ্গলবার মব সৃষ্টি করে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উপর হামলা চালিয়ে সরকারি ৬টি গাড়ী ভাংচুরসহ আসামীকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনায় এখ পর্যন্ত কোনো মামলা রুজু করা হয়নি। ভিডিও দেখে নাম শনাক্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি আসামী না হয় কিংবা গ্রেফতার করা নয় হয়। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতেই মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্প হচ্ছে বলে দাবী করেন।

শিশু নন্দিনী রাণীর বাবা নলনী মোহন বর্মণ, মা সাবিত্রী রাণী ও চাচা তরণী মোহন বর্মণ আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবী করেছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে আদিতমারী থানা পুলিশ জানতে পারে নিখোঁজ নন্দিনী রায়ে মরদেহ বাড়ীর পাশের ভূট্টাক্ষেতে বস্তাবন্দী অবস্থায় পুতে রাখা হয়েছে। আদিতমারী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করতে যায়। আদিতমারী থানার মাধ্যমে খবর পেয়ে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশ ক্রাইমসিন, সুরতহাল প্রতিবেদন ও মরদেহ মর্গে পাঠানোর জন্য ঘটনাস্থল যায়। পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন সুমা ও সহকারী পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এরপর ফলিমারী গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে যেতে শুরু করে। বাড়তে থাকে বহিরাগত লোকজনের সমাগম। এক পর্যায়ে পরিন্থিতি সামাল দিকে পুলিশ সুপার জেলা প্রশাসন ও বিজিবিকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য বার্তা পাঠান।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone