লালমনিরহাটের জেলা সদরে চরম শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ভাটিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সিঁড়ি রুম ও বারান্দায় চলছে পাঠদান কার্যক্রম। রোদ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ক্লাস করছে বিদ্যালয়ের সিঁড়ি রুম ও বারান্দায়। দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোদে শিক্ষার্থীদের সিঁড়ি রুম ও বারান্দাতে ক্লাস করার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করণে এবং সুষ্ঠু ভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার নিমিত্তে বিদ্যালয়টির অনুকূল সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণের আশু প্রয়োজন। নিরাপদ শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাক দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২শত ৪৪জন। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন মোট ৮জন। কিন্তু বিদ্যালয়ে সচল আছে মাত্র ৫টি কক্ষ। এর মধ্যেই প্রথম ভবনে রুম ৩টি রুম। প্রাক প্রাথমিক, পঞ্চম ও একটি কক্ষ শিক্ষকরা ব্যবহার করেন। দ্বিতীয় ভবনে বাকি দুটি কক্ষে ভাগ করে একই দিনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। অপর একটি টিন শেডের ঘরে ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস হচ্ছে। সিঁড়ির রুম ও বারান্দায় ৪র্থ শ্রেণির ৪৩জন শিক্ষার্থীর ক্লাস হচ্ছে। তন্মধ্যে সিঁড়ির রুমে ৩১জন ও বারান্দায় ৪টি সেট বেঞ্চে ১২জন শিক্ষার্থী ক্লাস করছে। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় উপজেলার মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পেলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কক্ষ সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সিঁড়ির রুম ও বারান্দায় পাঠদান করতে হচ্ছে।
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফুজ্জামান ২০১১ সালের ২৫ মে পরিদর্শন বহিতে উল্লেখ করেন বিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যার তুলনায় রুম সংখ্যা কম হওয়ায় সঠিক ভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছেনা। লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মনিটরিং অফিসার (উপবৃত্তি) মোঃ আবু বকর সিদ্দীক একই বছরের ২০ জুলাই একই কথা উল্লেখ করেন। লালমনিরহাট পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল কুদ্দুছ মিঞা ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ও মোঃ এনামুল হক ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ অনুরূপ সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। সেই সাথে বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে পরিদর্শকের মন্তব্যে তুলে ধরেন।
ভাটিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ মোহসিন আলী ও প্রধান শিক্ষক মিনতী রাণী সরকার ২০২১ সালের ২ মার্চ ও সাবেক সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক মিনতী রাণী সরকার ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল যৌথ স্বাক্ষরিত লালমনিরহাট সদর উপজেলাধীন ভাটিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির সম্প্রসারিত/ ঊর্দ্ধমুখী ভবন নির্মাণের আবেদন পত্রে উল্লেখ করেন যে, ভাটিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতার দরুন বর্তমানে প্রায় ২৫০জন শিক্ষার্থী বিশিষ্ট ও এক শিফ্টে পরিচালিত বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ইতি পূর্বে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করণে এবং সুষ্ঠু ভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় নিমিত্ত বিদ্যালয়টির অনুকূলে সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণের আশু প্রয়োজন হেতু মহোদয়ের সমীপে আবেদন করছি। উল্লেখ্য যে উক্ত বিদ্যালয়টি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
মেরাজ ইসলাম, মিলি, জয়, পাখি, পিংকী, নাহিদ, হাসানুল, রাখী, মুকিম মেরাজসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের স্কুলের ক্লাসরুম কম তাই আমাদের বারান্দায় ও সিঁড়ির রুমের মধ্যে ক্লাস করতে হয়। রোদে ভালো লাগে না। গরম করে। ফ্যান থাকার পড়েও, কষ্ট হয়। এতে পড়াশোনা করতে পারি না।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক আরিফা জান্নাত বলেন, আমি চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস টিচার। এখানে সিঁড়ির রুমে ক্লাস হচ্ছে। স্টুডেন্টরা ঠিকমতো বোর্ড দেখতে পায় না ভিতরে একদম চাপাচাপি করে বসতে হয়। ফ্যান দেওয়ার পরেও ওরা পর্যাপ্ত বাতাস পাচ্ছে না। আবার বাইরে বারান্দায় ১২জন শিক্ষার্থী ক্লাস করছে। যদি ভেতরে জায়গা পেত তাহলে আমারও ভালো লাগত ওদেরও ভালো লাগত। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমাধান চাচ্ছি।
ভাটিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিনতী রাণী সরকার বলেন, এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৪৪জন। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বসার সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমি এই সম্যস্যায় ভুগছি তারা বিশেষ করে ক্লাসে বসার জায়গা হয় না চতুর্থ শ্রেণীকে সিঁড়ির রুমে বসায়ে বাকিগুলোকে প্রায় ১২জনকে বাইরে বসাইতে হচ্ছে। বাইরে বসার কারণে তারা ব্লাকবোর্ড দেখতে পায়না এবং তারা ভালো করে শুনতে পায় না। এক শিক্ষক একবার বারান্দায় একবার ক্লাস রুমে বলতে হচ্ছে। এটাই যদি সমস্যা হয় মাত্র ৪টা রুমে ২৪৪জন স্টুডেন্ট বসার ক্যাপাচাটি আমি কিভাবে করবো। এজন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও ভাটিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ বিয়াজুল ইসলাম বলেন, ভাটিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপাতে শ্রেণি কক্ষের সংকট আছে। এ কারণে কিছু শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় ক্লাস করতে হচ্ছে।