সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (২ নভেম্বর) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির বিশেষ টহলদল কর্তৃক ২টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ ইজিবাইক ও গাঁজা জব্দ করেছে। চোরাচালান প্রতিরোধের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক বিরোধী অভিযানে বিজিবি’র দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ মিলেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার (১ নভেম্বর) বিকাল আনুমানিক ৫টা ৩০মিনিটে বালারহাট বিওপি’র আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার পালপাড়া নামক স্থানে বিজিবির টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযান পরিচালনাকালীন সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইক আসতে দেখে বিজিবি টহল দল থামানোর নির্দেশ দিলে চোরাকারবারীরা ইজিবাইক ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত ইজিবাইক তল্লাশী করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ৪০টি বোতল উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, রোববার (২ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টা ১০মিনিটে মোগলহাট বিওপি’র আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট থানার চর ফলিমারী নামক স্থানে চোরাকারবারীদের গতিবিধি টের পেয়ে টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ফেলে রাখা মালামাল তল্লাশী করে ৩৬কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ৪০টি বোতল, যার বাজার মূল্য ১৬হাজার টাকা, ১টি ইজিবাইক, যার বাজার মূল্য ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা এবং ভারতীয় গাঁজা ৩৬কেজি যার বাজার মূল্য ১লক্ষ ২৬হাজার টাকাসহ সর্বমোট বাজার মূল্য ৩লক্ষ ৯২হাজার টাকা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। মাদক পাচার রোধে সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া তিনি স্থানীয় জনগণকে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং গোপন তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেন।
এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।