শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে ক্ষতিকারক ইউক্যালিপটাস গাছ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে লালমনিরহাটের বটতলার সড়কবাতি জ্বলে না! লালমনিরহাটের প্রাচীন বটগাছটি হেলে যাচ্ছে! লালমনিরহাটে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই চেষ্টা; ২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার! লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে অব্যাহতি লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ২লাখ ৪০হাজর টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ! উপকারভোগীর কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ায় ক্ষেপে গেলেন প্রধানমন্ত্রী! লালমনিরহাটে সিজেজি সদস্যদের সাথে নেটওয়ার্কিং মিটিং অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী মোগলহাট জিরো পয়েন্ট এখন শুধুই স্মৃতি : দর্শনার্থীদের ভিড়
সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা!

সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা!

আলোর মনি রিপোর্ট: নিম্ন শ্রেণির কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ নেয়া কোয়াটারে বসবাস করছেন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা। অধিকাংশই রয়েছেন বিশেষ সুবিধায় সম্পুর্ন ফ্রিতে। ফলে মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

 

জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২৯শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করে সরকার। রোগীর চাপ বিবেচনা করে পরবর্তিতে তা ৫০শয্যায় উন্নতি করা হয়। সেই অনুযায়ী নতুন ভবনসহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ২০/২৫টি পরিবারে কোয়াটারও নির্মান করা হয়। সরকারী বাসা বরাদ্দ নিলে বেতনের একটা অংশ বাসা ভাড়া হিসেবে বেতন থেকে কর্তন করা হয়। সেক্ষেত্রে বেতন বেশি হলে বাসা ভাড়াও বেশি কর্তন হয়। বাসা ভাড়া হিসেবে কর্তনকৃত অর্থ সরাসরি সরকারের কোষাগারে জমা হয়। যারা ফ্রিতে থাকেন তাদেরকে কোন ভাড়া দিতে হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে মাঝে মধ্যে খুশি রাখতে কিছু টাকা গুনতে হয়। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিতে কতিপয় কর্মকর্তা নিম্ন শ্রেণির কর্মচারীদের নামে বাসা বরাদ্দ নিয়ে নিজেরা বসবাস করেন। বরাদ্দ গ্রহনকারী কর্মচারীর যে পরিমান অর্থ কেটে নেয়া হয়। তা বসবাসকারী কর্মকর্তা ওই কর্মচারীকে নগদে প্রতিমাসে প্রদান করেন। এভাবে মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। শুধু তাই নয়। কোন কোন কোয়াটার সরকারী খাতায় শুন্য দেখানো হলেও বাস্তবে ভাড়ামুক্ত ফ্রিতে বসবাস করেন সরকারী কর্মকর্তাররা। এমনকি সরকারী কাজে আসা অস্থায়ী কর্মকর্তাদের বিশ্রামের জন্য নির্মাণ করা ডমনেটরীতেও কর্মকর্তারা দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতেই শেষ নয়। নিজ এলাকায় কর্মরত থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) নামেও বাসা ভাড়া বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এসব বাসায় থাকেন চিকিৎসকরা। সিএইচসিপিদের বেতন স্কেল আর চিকিৎসকদের বেতন স্কেলের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। সব মিলে এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়াটার বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম বিরাজ করছে। সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিলেও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতেও মাঝে মধ্যে টাকা গুনতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

সরেজমিনে হাসপাতালের কোয়াটার ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য সহকারী মশিউর রহমানের নামে বরাদ্দ করা কোয়াটারে ছিলেন উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) আরিফ হোসেন। কয়েক মাস টাকা না দেয়ায় মশিউর রহমানের সাথে বিতর্ক বাঁধে। অবশেষে বাসা ছেড়েছেন মর্মে মশিউর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেন। এরপরও সেই আবেদন গ্রহন না করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন থেকে বাসা ভাড়া কেটে নেয়া হয়। এ নিয়েও মশিউরের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বেশ বিতন্ডা হয়। পরবর্তীতে তা নিষ্পত্তি হয় বাসা পরিবর্তন করে। সিএইচসিপি মিলন বর্ম্মনের নামে বরাদ্ধ দেয়া কোয়াটারে ২০১৬ সাল থেকে বসবাস করছেন উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আব্দুস সালাম। অপর সিএইচসিপি মশিয়ার রহমানের বরাদ্ধ নেয়া বাসায় ৭বছর ধরে থাকেন অপর স্যাকমো সৌরভ দত্ত। স্বাস্থ্য পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন থাকেন স্বাস্থ্য সহকারী গোলাম রব্বানী মিরুর নামে বরাদ্ধের বাসায়। পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন হাসপাতালের কোয়াটারে। এসব কর্মকর্তা বরাদ্দ নেয়া কর্মচারীদের মাধ্যমে সামান্য কিছু টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিলেও এ হাসপাতালের অধিকাংশই ফ্রিতে থাকেন। সরকারের কোয়াটারে এক যুগের অধিক সময় ধরে বসবাস করা ব্রাদার আমির হোসেন রয়েছেন সম্পর্ন ফ্রিতে। একই ভাবে ফ্রিতে রয়েছেন, ফার্মাসিস্ট মাহাফুজ, ইপিআই টেকনিশিয়ান শান্তনা বেগম, নার্স মৌমিতা, নার্স শ্যামলী রানী, নার্স সাথী আকতার, নার্স শাহিনা বেগম, নার্স রওশনারা, নার্স নমিতা রানী, নার্স মাধবী রানী ও নার্স রিক্তা বেগম। ডমনেটরীতে ফ্রিতে থাকেন নার্স সুপারভাইজার লক্ষ্ণী রানী।
তবে কোয়াটারে বসবাসকারীরা ফ্রিতে ও অন্য নামে বরাদ্দ নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

 

কোয়াটারে ফ্রিতে থাকা ফার্মাসিস্ট মাহাফুজ সাংবাদিকদের বলেন, স্যারকে বলে বিশেষ সুবিধায় কোয়াটারে এক বছর ধরে আছি। তবে কোন ভাড়া কর্তন হয় না।

 

নার্স সাথী আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, গত জানুয়ারী থেকে কোয়াটারে আছি। কোন বাড়া দিতে হয়নি। মাঝে মধ্যে সংবাদকর্মীকে দিতে হয় বলে কিছু টাকা অফিসের একজনের হাতে জমা দিতে হয়।

 

নার্স মাধবী রানী সাংবাদিকদের বলেন, একটু সুবিধা পেতে সরকারী কোয়াটারে বিশেষ সুবিধায় থাকি। কোন ভাড়া কর্তন হয় না। তবে সাম্প্রতি নিজ নামে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি।

 

কোয়াটার বরাদ্দ নেয়া স্বাস্থ্য সহকারী গোলাম রব্বানী মিরু সাংবাদিকদের বলেন, আমি নিজ বাড়িতে থেকে অফিস করি। কিন্তু আমার নামে বরাদ্ধ নেয়া কোয়াটারে থাকেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ফরিদ। তিনি এ জন্য প্রতি মাসে বেতনের কর্তনকৃত ৫হাজার ৯৬৩টাকা আমাকে দেন। বাসার যাবতীয় দায়িত্ব তার। আমি বাসা ছেড়ে দিতে সাম্প্রতি আবেদনও করেছি।

 

অন্যের নামে বরাদ্দ নেয়া স্যাকমো সৌরভ দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, সিএইচসিপি’র নামে বরাদ্দ নেয়া কোয়াটারে বসবাস করি। তার বেতনের যেটুকু কর্তন হয়। তা আমি তাকে প্রতিমাসেই পরিশোধ করি।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বসবাস যোগ্য কতটা কোয়াটার রয়েছে তা এ মুহুর্তে আমার জানা নেই। ফ্রিতে সরকারী কোয়াটারে বসবাস করার কোন নিয়ম নেই। বিশেষ কিছু জানার থাকলে তথ্য অফিসে আবেদন করুন। সেখানে তথ্য পাঠানো হবে।

 

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়ের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তবে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের বিষয়টি আমার জানা নেই। ভাড়ামুক্ত ফ্রিতে সরকারী কোয়াটারে থাকার কোন সুযোগ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone