শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৩সেন্টিমিটার উপরে! লালমনিরহাটে বিদ্যুতের সঙ্গে বন্ধ হয় মোবাইল নেটওয়ার্কও; হতাশায় এলাকাবাসী! লালমনিরহাটে খেলাধুলার মাঠে মাটির স্তূপ! লালমনিরহাটে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত দেশবাসীকে সাপ্তাহিক আলোর মনি’র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা লালমনিরহাটে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৪ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটে জাতীয় মহাসড়কের ডিভাইডারে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড স্থাপন! লালমনিরহাটের সাংবাদিক মোঃ মিজানুর রহমান-এঁর শুভ জন্মদিন পালিত লালমনিরহাটের হযরত শাহ্ কবির (রহঃ) বড়দরগাহ মাজার শরীফ লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবীতে- মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

জ্যৈষ্ঠ মাসে কদম ফুল ফুটেছে

আলোর মনি রিপোর্ট: জ্যৈষ্ঠ মাসে বর্ষার আগমনে যেন কদম ফুলের হাসি ফুটেছে। প্রকৃতি সাজে ভিন্ন রুপে। তবুও চিরচেনা অপরুপ সুন্দরের অধিকারী বনফুল কদম। এ বর্ষায় কদম ফুল ফুটেছে লালমনিরহাট জেলাসহ লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম উপজেলার গ্রাম ও শহর এলাকায়। আর সেই চিরচেনা কদম ফুল এখন হারিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি ধোয়া জ্যৈষ্ঠের বাতাসে কদম ফুলের ঘ্রান যেন স্বপ্নের রাজ্যে দোল খাচ্ছে। গ্রাম বাংলার প্রকৃতি আর বৃষ্টির প্রতিটি রিম ঝিম ফোঁটা যেন সবাইকে সম্মোহিত করছে। গ্রামে বর্ষার আগমন বার্তা কদম ফুল লালমনিরহাটের শহর কিংবা গ্রাম থেকে মফস্বল এলাকায় যেন আপন মহিমায় আগমন ঘটেছে। গাছে গাছে ফুটেছে কদম ফুল। একটি দূলভ ফুলের নাম কদম। তবুও কদম গাছ এখন কম চোখে পড়ছে। এক সময় ছিল বর্ষার কদম ফুলকে নিয়ে গ্রাম বাংলায় চর্চা হতো কবিতা ও ছড়া-গান সাহিত্যে ও উপন্যাস। শিল্প সাহিত্যের ঐতিহ্যকে টিকে রাখতে কদম ফুলের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। কদম ফুল আমাদের বর্ষা ও আষাঢ মাসের দূত। প্রকৃতির বুকে যেন সৌরভ বাতাসে দুলছে কদম ফুল। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে আষাঢের শুরুতে ব্যাপক ভাবে কদম ফুল ফুটে। এখন লালমনিরহাটসহ সকল উপজেলায় যেন কদম ফুল হাঁসছে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে। কদম ফুলের মৌ মৌ গন্ধে যেন দৃষ্টি কারছে সবার। বর্ষার অনুভূতি ও অপরুপ সৌন্দর্য্যের দাবিদার কদম ফুল। তবুও আমরা যেন বাড়ির উঠানে একটি করে কদম গাছের সৌরভ পেতে চায়। কিন্তু বাড়ির আঙ্গিনায় রাস্তায় দুপার্শ্বে ও পুকুর পাড়ে কদম গাছ ছিল চোখে পড়ার মত। আষাঢের কদম গাছ ফুলে ফুলে ভরে থাকতো। কদম ফুল সৌন্দর্য্য পিপাসুদের তৃপ্তি দিত। তরুন-তরুনীরা কদম ফুল তাদের প্রিয়জনকে উপহার দিত। মেয়েরা পড়তো খোঁপায়। খেলায় মেতে উঠতো শিশুরাও। ফলে কদম ফুলের গাছ ঘর-বাড়ী ও আসবারপত্রে কাজে ব্যবহার হতো। ম্যাচ ফ্যাক্টরীতে কদম গাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশী। কদম গাছ কমে যাওয়ায় এখন মানুষ ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে। সবাই এখন বাড়ির আঙ্গিনায় ফলমূল ও ফুলের গাছ লাগাচ্ছে। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে কদম ফুলের গাছ।

 

কদম ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম “Neolamarckia Cadamba” কদম ফুল যেন বর্ষার দূত। এছাড়াও বাংলা সাহিত্যে কদম ফুলকে নীপ, বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভূঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, লালনাপ্রিয়, সুরভি, সিন্ধুপুষ্প নামে ডাকা হয়েছে।

 

কদম ফুলের আদি নিবাস মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। তবে লাল কদম বাংলাদেশ থেকে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও উপস্থিতি চোখে পড়ে না। বিশ্বের নানা দেশে কদম গাছ দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, মালয়ে, নেপাল, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়ায় এই কদম ফুলের গাছ রয়েছে। কদমের সংস্কৃত নাম কদম্ব। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল।

 

মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্য জুড়ে রয়েছে কদমের সুরভীমাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাথা। ভগবত গীতা থেকে শুরু করে লোকগাথা, পল্লীগীতি, রবীন্দ্র কাব্যে পর্যন্ত কদম ফুলের উল্লেখ রয়েছে। ভানুসিংহ, পদাবলী, বৈষ্ণব পদাবলী ও শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনে নানাভাবে নানা আঙ্গিকে এসেছে কদম ফুলের কথা।

 

কদম ফুল নিয়ে গ্রাম বাংলার নানা ছড়া-কবিতাও রয়েছে- “চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে কদম তলায় কে, হাতি নাচছে ঘোড়া নাচছে সোনা মনির বিয়ে।”

 

কদম গাছ বৌদ্ধ ধর্মের একটি পবিত্র গাছ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে জড়িত কদম গাছ। শ্রীকৃষ্ণের লীলা খেলা থেকে শুরু করে রাধাকৃষ্ণের বিচ্ছেদ সব কিছুতেই রয়েছে কদম গাছের উল্লেখ। কদম গাছ দীর্ঘ আকৃতির এবং বহু শাখা বিশিষ্ট উদ্ভিদ। রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম গাছ। কদমের গাছ সরল উন্নত ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ কর্কশ। কদমের পাতা হয় বড় বড় ডিম্বাকৃতি উজ্জ্বল সবুজ তেল চকচকে। নিবিড় পত্রবিন্যাস এর জন্য কদম ছায়াঘন একটি গাছ। গাছের উচ্চতা ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত হয়।

 

কদম গাছের ছাল জ্বরের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতার রস ছোটদের কৃমির জন্য খাওয়ানো হয়। ছাল ও পাতা গুরুত্বপূর্ণ ব্যথানাশক ঔষধ। কোন কোন অঞ্চলে আবার কদম ফুল তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়।

 

ফুলগাছ গ্রামের হরিপদ রায় হরি বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য পূর্ণ একটি দেশ। এ জন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রচুর পরিমানে গাছ লাগানো প্রয়োজন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য রক্ষায় কদম ফুলের অবদান রয়েছে। কদম ফুল সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে ফলে সবার মন জয় করেছে।

 

কবি ও সাহিত্যিক কমল কান্তি বর্মণ বলেন, আমরা সবকিছু ভুলে গিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় ফুল ও বনজ বৃক্ষের চারা লাগানোর পাশাপাশি সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য কদম গাছ লাগানো দরকার। এমনকি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি কদম ফুল খায়।

 

লালমনিরহাট আদর্শ ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রিজভী আহম্মেদ সৌরভ বলেন, ব্যক্তি পর্যায় ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও সরকারি-বেসরকারি জায়গায় কদম গাছ লাগানো প্রয়োজন। তাহলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাবে।

 

উপ-সহকরী কৃষি কর্মকর্তা সুলতান সেলিম বলেন, সৌন্দর্য্য ও মন ভাল রাখতে হলে কদম ফুলের বিকল্প নাই। এ বর্ষায় আমাদের সবাইকে কমপক্ষে একটি করে কদম ফুলের গাছ লাগানো প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone