লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার আমিনগঞ্জ দক্ষিণ ঘনেশ্যাম মৌজায় জমির মালিকানা ও দলিলের বৈধতা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিতর্কিত দলিলের মাধ্যমে জমি রেকর্ড করা এবং দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, হাসমত আলীর ওয়ারিশ বাহাজ উদ্দিন ও আব্দুল খালেক ১৯৬২ সালের সরকারি কবুলত অনুযায়ী ৭৬৩৭ নম্বর দাগের ৬৩শতাংশ জমির মালিক। তাঁদের অভিযোগ, ১৯৯২ সালে জমির রেকর্ড নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় ৬৬১৬ ও ৬৬১৭ নম্বর দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ৬৬১৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে হযরত আলী নামের এক ব্যক্তির অনুকূলে ৩৬শতাংশ জমির কবুলতনামা ও দলিল তৈরি করে রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
অভিযোগে আমান আলী ও ইয়াকুব আলীর নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তাঁরা বিতর্কিত দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করছেন এবং ভোগ দখলীয় জমির অংশবিশেষ দখলের চেষ্টা করছেন। এ সময় ভাড়াটে লোকজন ও নারীদের ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া ৯৬০৫ নম্বর দাগের ৩৬শতাংশ জমি নিয়েও বিরোধের কথা জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমির ১২শতাংশ দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জমিটির মালিকানা নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, সালিশে তাঁদের মালিকানার বিষয়টি উঠে এসেছে।
জমির মালিকানা নিয়ে মোট ২২জনসহ আরও কয়েকজনের দাবির কথা উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট দলিল, সরকারি কবুলত, খতিয়ান ও রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
তবে দলিল জাল কি না, জমির প্রকৃত মালিকানা কার এবং দখলচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলাম মানিক
সম্পাদক : মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ
প্রকাশক : মোঃ রমজান আলী
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ হেলাল হোসেন কবির
Copyright © 2026 আলোর মনি. All rights reserved.