ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। তবে তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি এখনও বিদ্যমান থাকায় লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার হাজারও মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়েছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে এখনও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থাকায় লালমনিরহাটের ৫টি লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার হাজারও মানুষ পানিবন্দি। গত ৪৮ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাট জেলার ৩০টি গ্রামের প্রায় ১২হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রোপা আমন, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট খোলা আছে এবং পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
বন্যা সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৬সেন্টিমিটার নিচে এবং ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ৮৫সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, পানিবন্দি অবস্থার কারণে চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। নিম্নাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট প্লাবিত হয়েছে।
লালমনিরহাটের সদরের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের মাস্টার পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, পানি কিছুটা কমলেও আমরা চাই তিস্তার স্থায়ী সমাধান।
অন্যান্যরা আরও জানান, সরকার যদি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে আমরা রেহাই পাব।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, নদীর পানি বিপদসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। কোথাও পানি কমায় ভাঙন দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
চলতি মৌসুমে এটি তিস্তায় দ্বিতীয় দফা পানি বিপদসীমার ওপর উঠেছিল। গত ২৩ জুন প্রথম দফা ও গত ২৮ জুন দ্বিতীয় দফায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। যা বর্তমানে নিচে নামতে শুরু করেছে।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলাম মানিক
সম্পাদক : মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ
প্রকাশক : মোঃ রমজান আলী
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ হেলাল হোসেন কবির
Copyright © 2026 আলোর মনি. All rights reserved.