লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এর আগে রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যার পর হতে বিপদসীমার ৭সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়। ফলে তিস্তা ব্যারাজের পানির ডেঞ্জার লেভেল ৫২.১৫মিটারে উপনীত হয়েছে। লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে দেখা দেয় বন্যা। ফলে রোববার (২৮ জুন) রাত হতে ঘর-বাড়িগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট, আবাদী ফসলও। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় এবং গত কয়েকদিন ধরে অতি বর্ষণের ফলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত হলে ক্ষতির আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা থেকে বাড়তে শুরু করে নদীর পানি। রাত ১১টার দিকে তিস্তা ব্যারাজের পানির লেভেল: ৫২.১৫মিটার। এদিকে তিস্তার প্রবল স্রোত সামাল দিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েও পানি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ডুবে গেছে ফসলের ক্ষেত। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার চাষিরা।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর তা কমলেও লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্ধুর্ণা, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের অন্তত হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে বহু কাঁচা-পাকা সড়কে পানি উঠে পড়ায়।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের নজমুল হোসেন বলেন, আমরা নদীপাড়ের মানুষ চরম আতঙ্কে আছি। প্রচণ্ড গতিতে পানি দিকে ধেয়ে আসছে। যে কোনো সময় আমাদের ঘর-বাড়ি তিস্তার পানিতে ডুবে যেতে পারে। প্রতিবছর আমরা এই ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা ভাঙ্গণ রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড সকল ধরনের প্রস্তুতি হাতে রেখেছে।
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি কমে বিপদসীমার ১৭সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিতভাবে পরিস্থিতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও রাস্তাগুলো পর্যবেক্ষণ করছি।
এদিকে সোমবার (২৯ জুন) বিকাল ৩টায় লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি সমতল ৫১.৯৮মিটার, (বিপদসীমা ৫২.১৫মিটার) যা বিপদসীমার ১৭সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানির সমতল ৩০.৩৫মিটার, (বিপদসীমা ৩০.৮৭মিটার) যা বিপদসীমার ৫২সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়াও রত্নাই, স্বর্ণামতি, সানিয়াজান, সাকোয়া, চাতলা, মালদহ, ত্রিমোহীনি, মরাসতি, গিরিধারী, গিদারী, ধোলাই, শিংগীমারী, ছিনাকাটা, ধলাই ও ভেটেশ্বর নদীতে বন্যার পানিও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলাম মানিক
সম্পাদক : মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ
প্রকাশক : মোঃ রমজান আলী
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ হেলাল হোসেন কবির
Copyright © 2026 আলোর মনি. All rights reserved.