লালমনিরহাট সদর উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সেচ বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত সেচ কার্যক্রম কৃষকদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত সেচ সুবিধার অভাবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত কৃষকরা এখন নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধার মাধ্যমে অধিক ফলন ও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিএডিসির রাজস্ব বাজেটের আওতায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের সাকোয়া মৌজায় একটি ১-কিউসেক সাকশন মোড সেচ স্কিম পুনঃসক্রিয় (Resinking) করে চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে প্রায় ২০হেক্টর কৃষিজমি পুনরায় সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে।
নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় পূর্বে এক ফসলি হিসেবে ব্যবহৃত অনেক জমি বর্তমানে দ্বি-ফসলি ও তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
চলতি বোরো মৌসুমে সেচের সহজলভ্যতা কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের কারণে ধানের বৃদ্ধি ও শীষ গঠন ভালো হয়েছে এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। ফলে কৃষকরা এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ফলনের প্রত্যাশা করছেন।
সাকোয়া গ্রামের কৃষক মোঃ রহেল হোসেন বলেন, আগে সেচের অভাবে জমিতে ভালো ফলন হতো না। বিগত বছরে যেখানে ৫-৬ মণ ধান পেয়েছিলাম, এবার সেখানে ১৮-২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছি। বিএডিসির সেচ সুবিধা আমাদের জন্য বড় সহায়তা হয়েছে।
আরেক কৃষক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, আগে ব্যক্তিগতভাবে সেচের ব্যবস্থা করতে গিয়ে অনেক বেশি খরচ হতো। এখন বিএডিসির সেচ স্কিমের কারণে কম খরচে এবং সময়মতো সেচ পাচ্ছি। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং লাভের সম্ভাবনা বেড়েছে।
বিএডিসি (সেচ) লালমনিরহাট জোনের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মোহায়মেন-উল-ইসলাম জানান, কৃষকদের টেকসই ও সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা প্রদানই বিএডিসির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে পুনঃসক্রিয় করা সেচ স্কিমগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী মৌসুমে আরও অচল সেচ স্কিম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে অধিক সংখ্যক কৃষক এর সুফল ভোগ করতে পারেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ফলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ এবং বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকরা অধিক ফলন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিএডিসি সেচ বিভাগের এ উদ্যোগ শুধু সেচ সুবিধা সম্প্রসারণেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেচ সুবিধার এই ইতিবাচক প্রভাব লালমনিরহাটের কৃষিতে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যেখানে কৃষকের মুখে ফুটছে স্বাবলম্বিতার হাসি এবং কৃষি হয়ে উঠছে আরও লাভজনক ও টেকসই।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলাম মানিক
সম্পাদক : মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ
প্রকাশক : মোঃ রমজান আলী
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ হেলাল হোসেন কবির
Copyright © 2026 আলোর মনি. All rights reserved.