লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভায় পবিত্র ঈদ উল আযহাকে ঘিরে পশুর হাটগুলো জমতে শুরু করেছে। হাটগুলোতে প্রাধান্য পাচ্ছে স্থানীয় খামারের পালিত গরু। তবে পবিত্র ঈদ উল আযহা ঘনিয়ে আসায় ভারতীয় গরুর আমদানি আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন।
পবিত্র ঈদ উল আযহা আসতে আরও কয়েক দিন বাকি থাকলেও এখনই জমে উঠেছে কোরবানির গরুর হাট। লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড় পশুর হাটের মধ্যে দুড়াকুটিহাট, নবাবেরহাট (বিডিআরহাট), সাপটানা (নয়ারহাট), বড়বাড়ীহাট অন্যতম।
এছাড়াও এ এলাকার সর্ববৃহৎ হাটগুলোর মধ্যে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার রসুলগঞ্জহাট, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতাহাট, দইখাওয়াহাট, কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনাহাট, চাপারহাট, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ীহাট বসে।
এ হাটগুলোতে বেশির ভাগ গরু ভারত থেকে আনা হয়।
এসব হাটের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাটগুলোতে আগাম কোরবানির পশু আসা শুরু করেছে।
তবে বিক্রেতারা দাম আকাশ ছোঁয়া চাওয়ায় পশু তেমন বিক্রি হচ্ছে না।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার দুড়াকুটিহাটে কোরবানির পশু উঠেছে ব্যাপক। কিন্তু বিক্রেতারা দাম বেশি চাওয়ায় ক্রেতারা পশু তেমন কিনছেন না।
ক্রেতারা বলছেন, এবারে পশুর দাম যেভাবে চাওয়া হচ্ছে তাতে পশু কিনায় মুশকিল।
ক্রেতাদের মতে, পবিত্র ঈদ উল আযহার আরও কয়েকদিন বাকি, তাই আগাম বেশি দামে পশু কিনতে তারা নারাজ।
তবে ক্রেতা আর বিক্রেতারা উভয়েই বলছেন, আগামী দু'একদিন পরে হাটে গরুর আমদানি বেড়ে যাবে। আর তখন ক্রেতারা পশু কেনা শুরু করবেন।
হাটগুলোতে এখন পর্যন্ত ভারতীয় গরুর আমদানি অনেক কম বলে জানান, গরু ব্যবসায়ীরা তবে পবিত্র ঈদ উল আযহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ভারতীয় গরুর আমদানি বেশি হলেও স্থানীয় খামারের বা বাড়িতে পোষা গরুই বেশি প্রাধান্য পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।
পশুর আমদানির উপর দামের নির্ভর করলেও এ বছর সকল ধরনের পশুর দাম তুলনামূলক অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
পশুর হাটের ইজারাদাররা বলছেন, হাটে এখন পর্যন্ত ভারতীয় গরু-মহিষের আমদানি কম। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু এখন তেমন আসছে না। তাই এবারের কোরবানিতে দেশীয় গরুর কদর থাকবে।
তারা আরও বলেন, এবারের পবিত্র ঈদ উল আযহায় বিভিন্ন এলাকার খামার ও গৃহস্থদের বাড়ির গরুই তাদের হাটে প্রাধান্য পাবে।
জানা যায়, অন্যান্য বছরের মতো এবারে স্থানীয় ভাবে গড়ে ওঠা খামারের সংখ্যা অনেক কম। আগের বছরগুলোতে ভারতীয় গরুর সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে ভালো দাম না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়েছিলেন। এতে তারা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন। যে কারণে ক্ষতিগ্রস্থরা এবারে আর তেমন খামার গড়ে তোলেননি। তবে বিভিন্ন গ্রামের গৃহস্থদের বাড়িতে বাড়িতে ৩-৪টি করে দেশীয় গরু পালন করেছেন অনেকে। আর এ সব গরুই এবারের কোরবানির ঈদে ক্রেতাদের হবে প্রধান টার্গেট।
লালমনিরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, লালমনিরহাট জেলায় ১লাখ ৫২হাজার ৮শত ৮৪টি কোরবাণীর প্রাণীর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ২লাখ ৬হাজার ৪শত ৬২টি। চাহিদার তুলনায় এ জেলায় ৫৩হাজার ৫শত ৭৮টি উদ্বৃত্ত রয়েছে।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলাম মানিক
সম্পাদক : মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ
প্রকাশক : মোঃ রমজান আলী
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ হেলাল হোসেন কবির
Copyright © 2026 আলোর মনি. All rights reserved.