লালমনিরহাটে জনতার দলের কর্মীর ওপর বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটে জনতার দল আদিতমারী কার্যালয়ে ১৭, লালমনিরহাট-০২ (কালীগঞ্জ, আদিতমারী) সংসদীয় আসনের কলম প্রতীকের প্রার্থী ও জনতার দলের চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ শামীম কামাল-এঁর আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ১৭, লালমনিরহাট-০২ (কালীগঞ্জ, আদিতমারী) সংসদীয় আসনের কলম প্রতীকের প্রার্থী ও জনতার দলের চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ শামীম কামাল। এ সময় ১৭, লালমনিরহাট-২ জনতার দল (কলম প্রতীক)র নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ মোজাম্মেল হক, রবীন্দ্রনাথ বাবুলসহ লালমনিরহাটের কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক বিকাল ৪:৩০ ঘটিকায় জনতার দলের কর্মীদ্বয় কালীগঞ্জের উত্তর দলগ্রামের গুরুদাস বর্মনের ছেলে রবীন্দ্রনাথ বাবুল ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নের খামারভাতি গ্রামের মোঃ সাদেকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাইফুল্লা সেতু চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পাটিকা পাড়ায় জনতার দলের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের লালমনিরহাট-২ এর প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল এর নির্দেশে নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ- কালীগঞ্জের চন্দ্রপুর পাটিকাপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ আবু সাঈদ, গোলাম রব্বানী ও মৃত হেলিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ খোকন মিয়া অকস্মাৎ জনতার দলের কর্মীদেরকে টাকা বিতরণের মিথ্যে অভিযোগ করে কিল-ঘুষি মারে এবং মোবাইল কেড়ে নেয়। প্রায় দুই ঘন্টা আটকে রেখে রবীন্দ্রনাথ বাবুলকে তল্লাশী করে সন্ত্রাসীরা মাত্র ৫শত টাকা পকেটে পায়। ইতোমধ্যে সন্ত্রাসীরা কালীগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানালে পুলিশ এবং বিজিবি টহল ২ঘন্টা পরে রবীন্দ্রনাথ বাবুলকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জে নিয়ে আসে। সন্ত্রাসীরা ২জন সাক্ষীকে ভয় প্রদর্শন করে এই মর্মে জানায় যে "যদি এই সাক্ষী না দেয় তাহলে এলাকায় থাকতে পারবে না"। দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ঐ ২ মিথ্যা সাক্ষীর উপর ভিত্তি করে জনাব রবীন্দ্রনাথ বাবুলকে ২হাজার টাকা জরিমানা করেন। বিষয়টি অতিদ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওসহ ছড়িয়ে পড়ে- যা ব্যক্তি এবং দলের জন্য প্রচন্ড মর্যাদাহানিকর। যাঁর পকেটে মাত্র ৫শত টাকা ছিল সে কীভাবে ভোটের জন্য টাকা বিতরণ করতে পারে তা বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, উপরোক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জনতার দল নিম্নোক্ত অভিযোগ উত্থাপন করছে- অন্য দলের কর্মীর উপর হামলা করে প্রার্থীসহ উল্লেখিত কার্যক্রম সন্ত্রাসীরা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। ১নং সন্ত্রাসী এমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় কোনোভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচার কার্য করতে পারেন না- সেখানে সে অন্য দলের কর্মীর উপর হামলা করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এক পক্ষ শুনে মিথ্যে সাক্ষীর উপর ভিত্তি করে জরিমানা করা যথাযথ নয়। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন বলে জনতার দল মনে করে। ফেসবুকসহ নানাবিধ সামাজিক প্রচার মাধ্যমে এ বিষয়টি প্রচারে জনতার দলের ভাবমুর্তি ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে লালমনিরহাট-২ আসনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপরোক্ত বিষয়ে জরুরীভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জনতার দল মানহানিসহ অন্যান্য বিচারিক ব্যবস্থার শরণাপন্ন হবে। সুষ্ঠু, সুন্দর এবং ভীতিমুক্ত নির্বাচনের পরিবেশের স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলাম মানিক
সম্পাদক : মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ
প্রকাশক : মোঃ রমজান আলী
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ হেলাল হোসেন কবির
Copyright © 2026 আলোর মনি. All rights reserved.