শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে ক্ষতিকারক ইউক্যালিপটাস গাছ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে লালমনিরহাটের বটতলার সড়কবাতি জ্বলে না! লালমনিরহাটের প্রাচীন বটগাছটি হেলে যাচ্ছে! লালমনিরহাটে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই চেষ্টা; ২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার! লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে অব্যাহতি লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ২লাখ ৪০হাজর টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ! উপকারভোগীর কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ায় ক্ষেপে গেলেন প্রধানমন্ত্রী! লালমনিরহাটে সিজেজি সদস্যদের সাথে নেটওয়ার্কিং মিটিং অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী মোগলহাট জিরো পয়েন্ট এখন শুধুই স্মৃতি : দর্শনার্থীদের ভিড়
লালমনিরহাটে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

লালমনিরহাটে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

লালমনিরহাটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ১৮,৫৬৬টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ৫ম পর্যায় (২য় ধাপে) জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে লালমনিরহাট জেলায় ১হাজার ৬টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২শতাংশ জমির কবুলিয়াত ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি।

 

মঙ্গলবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মহিষামুড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ, মহিষামুড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকার ভোগী ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাবু মিয়া, গৃহিণী শাহেরণ বেওয়া প্রমুখ। সংগীত পরিবেশন করেন দুলালী রাণী রায়। নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় নৃত্য শিল্পীবৃন্দ। এ সময় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জাকির হোসেন, রংপুর বিভাগ উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক এর কার্যালয়ের উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল বাতেন, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নুরুজ্জামান আহমেদ, লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মোঃ মতিয়ার রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. সফুরা বেগম রুমী, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এ বি এম আরিফুল হক-এঁর সভাপতিত্বে লালমনিরহাট সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হামিদ সরকার-এঁর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, লালমনিরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ দীপংকর রায় প্রমুখ। এ সময় লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাহবুবুর রহমান, লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান সুজন, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ এরশাদুল করিম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লতিফা বেগম লাকী, লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিউর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক উপজেলা ইউনিট কমান্ডার আবু বক্কর সিদ্দিকসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলায় পঞ্চম পর্যায় (২য় ধাপে) ১হাজার ৬টি ঘরের মধ্যে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ১৭, আদিতমারী উপজেলায় ১৪২, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৫৮০জন, হাতীবান্ধা উপজেলায় ১২৬, পাটগ্রাম উপজেলায় ১৪১টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২শতাংশ জমির কবুলিয়াত ও গৃহ হস্তান্তর করা হয়। এবং লালমনিরহাট জেলার ৪টি উপজেলায় ৬শত ১৭টি জরাজীর্ণ সিআইসিট ব্যারাকের মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় ১৯২, কালীগঞ্জ উপজেলায় ২৯৫জন, হাতীবান্ধা উপজেলায় ৭০, পাটগ্রাম উপজেলায় ৬০টি পরিবারকে পূনর্বাসিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের আবাসন কর্মসূচি আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় আজ সারাদেশে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাঝে আরো ১৮হাজার ৫৬৬টি বাড়ি হস্তান্তর করেন।

 

শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা মহিষামুড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প, কক্সবাজারের ঈদগাঁও এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সুবিধাভোগীদের কাছে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

 

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পঞ্চম পর্বের দ্বিতীয় ধাপে ১৮হাজার ৫৬৬টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তরের পাশাপাশি তিনি ২৬ জেলার সব উপজেলাসহ আরও ৭০টি উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করেন।

 

সরকার প্রধান লালমনিরহাটে ১ হাজার ২৮২টি, কক্সবাজারে ২৬১টি এবং ভোলায় ১ হাজার ২৩৪টি বাড়ি হস্তান্তর করেন।

 

নতুন ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত জেলা ও উপজেলা নিয়ে সারাদেশে জেলার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮টি এবং উপজেলা ৪৬৪টি।

 

এরআগে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৬৩ হাজার ৯৯৯টি, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৩৩০টি, তৃতীয় ধাপে ৫৯ হাজার ১৩৩টি এবং চতুর্থ ধাপে ৩৯ হাজার ৩৬৫টি বাড়ি বিতরণ করেন।

প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবারকে দুই দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিকানা দিয়ে একটি আধা-পাকা বাড়ি দেয়া হচ্ছে, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই হবে। প্রতিটি বাড়িতে দু’টি বেডরুম, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট এবং বারান্দা রয়েছে।

 

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম পর্যায়ের প্রথম ধাপে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ১২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে গৃহহীনদের পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর ও জমির মালিকানা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

 

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৭১ হাজার ৩০১টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসিত মানুষের সংখ্যা ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৫ জন (একটি পরিবারে পাঁচ জন করে)।

 

প্রকল্পের আওতায় এই পর্যন্ত সারাদেশে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের প্রায় ৪৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে আশ্রয়ণ এবং অন্যান্য কর্মসূচির আওতায় পুনর্বাসন করা হয়েছে। শুধুমাত্র আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৩ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের ২৯ লাখ ১০ হাজার ২৬৫ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্টান সঞ্চালনা করেন।

পরে, প্রধানমন্ত্রী সুবিধাবোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone