শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
মানস্মত প্রাথমিক শিক্ষা ও কিছু কথা-

মানস্মত প্রাথমিক শিক্ষা ও কিছু কথা-

:: মোছাঃ শামীমা আখতার :: মানস্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গঠনে সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষক হিসেবে আমার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ-

 

আমি মোছাঃ শামীমা আখতার, সহকারী শিক্ষক, শহীদ শাহজাহান কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর, লালমনিরহাট। স্বামী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সামসুল হক। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুস সালাম মিয়া। মাতা: মোছাঃ আকলিমা বেগম।

 

পৈত্রিক নিবাস গ্রাম- ভগীবালাপাড়া (লাকী পাড়া) সদর, রংপুর। আমি রংপুর “শহীদ সামাদ উচ্চ বিদ্মালয়”, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, রংপুর ক্যান্ট থেকে এসএসসি ও কারমাইকেল কলেজ, রংপুর থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। সেই সাথে বিএড ও সিইনএড প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। আমি ২০১৪ সাল থেকে বিষয় ভিত্তিক ইংরেজি প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। (TOT) Trainer of Teachers. এছাড়াও ২০২২ সালে আমি বৃটিশ কাউন্সিলের অধীনে TMTE (Training of Master TrainerTrainers in English) ট্রেনিং সম্পন্ন করে পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেছি। এ পর্যন্ত লালমনিরহাট সদরের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষককে আমি প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

 

পেশাগত দায়িত্ব পালনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তাই তো ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আমি প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩ এ লালমনিরহাট জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী নারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছি।

 

কেননা আমার প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, দক্ষতা, কৌশল ও উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে ছোট্ট সোনামনি শিক্ষার্থীদের উপর তা প্রয়োগ করে, তাদেরকে স্মার্ট বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোমার জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

অপ্রিয় হলেও এ কথা সত্যি যে, একটা স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বা একজন শিক্ষিত পরিবারের সন্তান ইংরেজিতে কথা বলবে বা ইংরেজি শুনে বুঝে উত্তর দিতে পারবে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। অন্যদিকে একটা অবহেলিত জনগোষ্ঠী যেখানে ৯০ শতাংশ অভিভাবকেই দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিক্সাচালক, বাসের হেলপার, বাজমিস্ত্রি, গার্মেন্টস কর্মী, গৃহকর্মী ও অন্যান্য পেশায় লিপ্ত। এমন কি অনেক শিশুর মা-বাবা পালিয়ে গেছে। তারা জানেনা তাদের বাবা অথবা মা কোথায় থাকে। বেশির ভাগ শিশু তাদের ফুফু, খালা, নানী ও দাদীর কাছে লালন পালন হচ্ছে।

 

অথচ সেই এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করে। ইংরেজি ভাষা বুঝে উত্তর দিতে পারে সেটা আমার কাছে সত্যি আশ্চার্যের ও গৌরবের বিষয়। আর সেই কঠিন কাজটি আমি নিরকল্পভাবে করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি ও সফলতার পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।

 

কেননা এক সময় যে শিশুটি ইংরেজি ভীতির কারণে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে কিংবা ইংরেজি ক্লাসের সময় কোন না কোন ছলে বাহিরে গিয়ে ক্লাসের সময় অতিবাহিত করেছে। সেই শিক্ষার্থীরাই আমার ইংরেজি ক্লাসে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে। ইংরেজি বুঝে উত্তর দিতে পারে এবং ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। ক্লাসের ৭০% শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিং পড়তে পারে। ক্লাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা প্রাণবন্ত ও সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে যা দেখে আমি নিজেকে সার্থক মনে করি।

 

শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করার জন্য ও তাদের ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করায় ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে আমার ব্যক্তিগত অর্থায়ণে ও প্রচেষ্টায় খাতা, কলম, পেনসিল, রাবার পেনসিল বক্স ও আরও অন্যান্য শিখন সামগ্রী উপহার দিয়েছি।

 

এছাড়াও লেখাপড়ার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক বিষয়ে অংশগ্রহণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মার্জিত ব্যবহার সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে সেরা ছাত্র ও ছাত্রী নির্বাচন করেছি।

 

এবারে সেরা ছাত্র-২০২৩ নির্বাচিত হয়েছে সামিউল আলম, ২য় শ্রেণি। ও সেরা ছাত্রী-২০২৩ নির্বাচিত হয়েছে নিশামনি, ৪র্থ শ্রেণি। এছাড়াও শিক্ষকের সাথে লেখাপড়া ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রাখা ও শিক্ষার্থীর প্রতি যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার জন্য সেরা মা-২০২৩ নির্বাচিত হয়েছে নাফিসার মা এবং আমি সবাইকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পুরস্কৃত করেছি।

 

এছাড়াও আমি হতদরিদ্র ১৮জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শীতের পোশাক উপহার দিয়েছি। শুধু তাই নয় আমি এতিম শিশুদের মাঝে খাতা, কলম ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করেছি। সভ) ও আধুনিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সামাজিকীকরণ ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিনিয়ত উৎসাহ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করে আসছি। বিদ্যালয়ের শত বাঁধা, সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূল পরিবেশ সত্বেও আমার একটাই লক্ষ্য আজকের শিশুদের ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

 

শিক্ষকতার মহান যে দায়িত্ব আমি পেয়েছি তা যেন আমি পালন করে সফল হতে পারি। আর এই ভালো কাজে আমার স্বামী মোঃ সামসুল হক সব সময় আমাকে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে আমার পাশে আছেন। এই জন্য তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

 

[লেখকঃ মোছাঃ শামীমা আখতার, সহকারী শিক্ষক, শহীদ শাহজাহান কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদালয়, সদর, লালমনিরহাট।]

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone