শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি হস্তান্তর অনুষ্ঠিত

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি হস্তান্তর অনুষ্ঠিত

Exif_JPEG_420

লালমনিরহাটে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড় চত্ত্বরে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি লালমনিরহাট জেলা শাখার আয়োজনে এ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়।

 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি মোঃ খুরশীদুজ্জামান আহমেদ-এঁর সভাপতিত্বে কুলাঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদুজ্জামান মিলু-এঁর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি পাটগ্রাম উপজেলা শাখার স্বপন রায়, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি হাতীবান্ধা উপজেলা শাখার সভাপতি মজিবর রহমান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি নুর ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি আদিতমারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আসম রওশন মোহন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি লালমনিরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি খায়রুজ্জামান মন্ডল বাদল, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি লালমনিরহাট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মোহাম্মদ বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মজিদ প্রমুখ। এ সময় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি উপজেলা ও জেলা শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

পরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে “মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে- বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মজিদ ও সভাপতি খুরশীদুজ্জামান আহমেদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) টি. এম. এ. মমিন-এঁর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এর পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে স্মারকলিপি হস্তান্তরের পর লালমনিরহাটের এক শিক্ষক গুরত্বর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

স্মারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। আপনার নেতৃত্বে সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ও দেশের সর্ববৃহৎ শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র পক্ষ থেকে আমাদের অভিনন্দন গ্রহণ করুন। বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত এ সংগঠনটি ১৯২১ সাল থেকে ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনসহ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিরামহীন সংগ্রাম করে আসছে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি আদর্শিক শিক্ষক সংগঠন। এ সংগঠনে পর্যায়ক্রমে শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাবেক প্রেসিডিয়াম মেম্বার অধ্যক্ষ মোঃ কামরুজ্জামান, নারী নেত্রী হেনা দাস, চৌধুরী খুরশীদ আলম, কে. এম. আবুল হাসান, আতিয়ার রহমান, রঞ্জিত কুমার সাহা, আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, মোঃ আবুল কাশেসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অবদানকারী শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। আপনি জানেন মহান মুক্তিযুদ্ধে এই সংগঠনটির রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সাহসী ভূমিকা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে অভীষ্ঠ লক্ষ্যে এগিয়ে নেবার জন্য সর্বদা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নির্মূলে দেশব্যাপী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে। এ সংগঠনটি আপনার এবং আপনার সরকার ঘোষিত দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির “রূপকল্প-২০৪১” বাস্তবায়নে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বসে থাকেন, “সম্মানীত শিক্ষকরা সমাজের বিবেক। শিক্ষকদের সম্মান সর্বোচ্চ। তাদের তুলনা কারও সঙ্গে চলে না। আপনার এ উদারতার জন্য শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের “জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫” এবং ২০১৮ সালে নির্বাচনের পূর্বে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বার্ষিক ৫% বেতন বৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা প্রদান করে শিক্ষক সমাজের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। আপনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা, উন্নয়নের রূপকার, শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের অভিভাবক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি যুদ্ধবিধস্ত দেশে ১৯৭৩ সালে প্রায় ৩৭হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। আপনিও প্রায় ২৬হাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। আমরাও সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষে দীর্ঘদিন যাবৎ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছি।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি অনেক বৈষম্য রয়েছে। আমরা বেসরকারি শিক্ষকগণ মাত্র ২৫% উৎসব ভাতা, ১,০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকি। অবসরে যাবার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষক/কর্মচারী টাকা পাওয়ার পূর্বেই অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাছাড়া কয়েক বছর যাবৎ কোন প্রকার বাড়তি সুবিধা ব্যতিরেকেই অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন হরা হচ্ছে। নানা কারণে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে এক ধাপ নিচে প্রদান করা হয়। তাছাড়া সহকারি প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রদান না করার ফলে উচ্চতর স্কেলপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও সহকারি প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল সমান হওয়ায় সহকারি প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলীর কোন সুযোগ নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির বয়স ৬৫ করা হলেও স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়স সীমা এখনও ৬০ বছরই রয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এ শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও এখনও তা গঠন করা হয়নি। শিক্ষা প্রশাসনের কোন স্তরেই এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের পদায়নের কোন সুযোগ রাখা হয়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস করা হলেও মাধ্যমিক স্তরে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সদস্যদের নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আপনার সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১০ সালে সময়োপযোগী একটি শিক্ষানীতি অনুমোদিত হলেও তা এখনও অনেকাংশেই বাস্তবায়িত হয়নি।

 

তাই সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি, মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরিকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা এখন সময়ের দাবি।

 

আমাদের প্রত্যাশা, আপনি মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের লক্ষ্যে আসন্ন ২০২৩-২০১৪ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেবেন।

 

পরিশেষে, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র পক্ষ থেকে দেশ ও জনগণের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও কল্যাণের লক্ষ্যে আপনার এবং আপনার সরকারের প্রতিটি শুভ পদক্ষেপের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone